সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী : ২০২৬ সংসদীয় নির্বাচন, যোগ্যতা, জনআস্থা ও সম্ভাবনার একটি নিরীক্ষামূলক পর্যালোচনা-

প্রকাশিত: 6:24 AM, November 14, 2025

সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী : ২০২৬ সংসদীয় নির্বাচন, যোগ্যতা, জনআস্থা ও সম্ভাবনার একটি নিরীক্ষামূলক পর্যালোচনা-

সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী : ২০২৬ সংসদীয় নির্বাচন, যোগ্যতা, জনআস্থা ও সম্ভাবনার একটি নিরীক্ষামূলক পর্যালোচনা-

শাহাদত বখ্ত শাহেদ
২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সম্ভাব্য প্রার্থীতা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নগর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পর তাঁর এই পদক্ষেপকে অনেকেই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার বিস্তৃত প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন। এই নিরীক্ষামূলক আলোচনায় তাঁর যোগ্যতা, জনগণের আস্থা এবং নির্বাচনী সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হলো।
প্রথমত, আরিফুল হক চৌধুরীর প্রশাসনিক দক্ষতা তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। দুইবারের জনপ্রিয় মেয়র হিসেবে সিলেট নগর পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর নেতৃত্বকে সমৃদ্ধ করেছে। নগর ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও নাগরিকসেবা উন্নয়নে তাঁর কার্যক্রম প্রমাণ করে যে তিনি বড় পরিসরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদীয় রাজনীতিতে আসা রাজনৈতিক নেতাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্বিতীয়ত, জনগণের আস্থা তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার মূল ভিত্তি। নগরবাসী থেকে শুরু করে গ্রামীণ পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মাঠপর্যায়ে ঘন ঘন যোগাযোগ, ব্যক্তিগতভাবে সমস্যা শোনার সংস্কৃতি এবং মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানোর সক্ষমতা তাঁকে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং জৈন্তাপুর—এই তিন উপজেলাই দীর্ঘদিন অবকাঠামোগত ঘাটতি, সীমান্তজনিত সমস্যা, বন্যা-দুর্যোগ ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে গেছে। এসব এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা আছে এমন নেতৃত্বকে জনগণ সাধারণত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে।
তৃতীয়ত, তাঁর সফলতার দিকগুলোও উল্লেখযোগ্য। নগরপরিচ্ছন্নতা, সড়ক-ড্রেনেজ উন্নয়ন, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, নগরের সৌন্দর্যবর্ধন, জনসেবার ডিজিটালাইজেশন—এসব উদ্যোগ সিলেট নগরের উন্নয়নকে দৃশ্যমান করেছে। এসব অর্জন তাঁর প্রশাসনিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক।
তবে সংসদীয় রাজনীতি নগর প্রশাসন থেকে ভিন্ন। এখানে শুধু উন্নয়ন নয়, আইন প্রণয়ন, জাতীয় নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির জটিলতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন। আরিফুল হক চৌধুরী যদি নির্বাচনে প্রার্থী হন, তাহলে এই পরিবর্তিত দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অন্যতম নির্ণায়ক উপাদান হবে।
সমষ্টিগতভাবে বলা যায়, যোগ্যতা, অতীত অভিজ্ঞতা এবং জনআস্থার ভিত্তিতে আরিফুল হক চৌধুরী ২০২৬ সালের নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। আর তাঁর নির্বাচনী সফলতার সম্ভাবনা নির্ভর করবে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর—অঞ্চলভিত্তিক সমস্যার গভীর উপলব্ধি, বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের সঙ্গে সযত্ন সম্পর্ক বজায় রাখার ধারাবাহিকতা। এই তিন উপাদান সুনিপুণভাবে পরিচালিত হলে তিনি সিলেট-৪ আসনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
১৪ নভেম্বর ২০২৫
সিলেট

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ